Facebook Youtube Twitter LinkedIn
Career Advice

নতুন বছরে সেরা ১০ ক্যারিয়ার

image

আইটি : বলা যায় শুধু দেশে নয়, বিশ্বজুড়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। এ সেক্টরের প্রবৃদ্ধির হার ৩০০ শতাংশ। কী ধরনের কাজ আছে, বলার চেয়ে ভালো হয় কী ধরনের কাজ নেই! সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গেম ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, থিম তৈরি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কর্মাস ইত্যাদি। যে কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে এখানে কাজ করা যায়। এর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে সবার প্রথমে প্রয়োজন শেখার আগ্রহ এবং অ্যাডপ্ট করার ক্ষমতা।

হিউম্যান রিসোর্স : একসময় এইচআর নিয়ে দেশি উদ্যোক্তাদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে এর কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর চাহিদা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব কর্মকর্তা অথবা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া এবং তাদের কাজের তদারকি করা এইচআরডির কাজ। একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী এইচআরডি কোম্পানির প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং কর্মীদের বেতন কাঠামো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে এইচআরডি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা এবং এরা যাতে ঠিকভাবে কাজ করে সেদিকেও নজরদারি করে এ বিভাগ। এখানে ক্যারিয়ার গড়তে চায়লে অবশ্যই মাস্টার্স/এমবিএ মেজর-ইন-এইচআর ডিগ্রিধারী হতে হবে। তা হলে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। কিছু কাজের আগে অভিজ্ঞতা থাকলে আরও ভালো হয়।

ব্যাংকিং অ্যান্ড ফিন্যান্স : দেশের তরুণদের পছন্দের চাকরির মধ্যে ব্যাংকিং সেক্টর অন্যতম। এর প্রধান কারণগুলো হলো বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা ও পেনশন। আমাদের দেশে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের পাশাপাশি অর্ধশত বেসরকারি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর পুরোটাই চাকরির বাজারে ভালো অবস্থানে ছিল ব্যাংকিং সেক্টর। এখানে বিভিন্ন পোস্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতা চাওয়া হয়। তবে এমবিএ/এমবিএম/পোস্ট গ্র্যাজুয়েট/সিএ ডিগ্রিসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়।

এনজিও : এ বছরও চাকরির বাজারের চাকরির ক্ষেত্র তৈরিতে এনজিও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এনজিওগুলো শহর থেকে গ্রামে সব স্থানেই চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিদেশি এনজিওগুলোর পাশাপাশি দেশীয় অনেক এনজিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সেক্টরে চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেশি। আর এর প্রধান কারণ হলো এখানে বেতন অনেক বেশি দেওয়া হয়। যদিও একটু পরিশ্রম করতে হয় এ সেক্টরে, তার পরও ভালো একটি অবস্থানে যেতে পারলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। এ সেক্টরে চাকরির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি, সিএ, এমবিএ ইত্যাদি শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়। ইংরেজিতে লেখা ও বলা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সেক্টরে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইলে উপরোক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন। এর সঙ্গে ফিল্ড লেভেলে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আরও ভালো হয়।

টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ : দেশে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং দিন দিন এ সেক্টরে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পাশাপাশি আরও অনেক ধরনের লোকবল প্রয়োজন হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বর্তমানে অনেক কোম্পানি রিসার্চ সেন্টার চালু করছে, সেখানেও কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। টিচিং অ্যান্ড রিসার্চে ক্যারিয়ার গড়তে হলে নিষ্ঠাবান হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন স্নাতকোত্তর, এমবিএ, পিএইচডি, সিএসই, ইইউ ইত্যাদি। এ সেক্টরে কাজের মাধ্যমে অনেক সম্মান অর্জন করা যায় এবং ভালো পারফর্ম করতে পারলে ভালো অর্থ উপার্জন সম্ভব। তাই যারা টিচিং অ্যান্ড রিসার্চে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে এ সেক্টরে আসা উচিত।

মেডিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস : বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে ওষুধ। তাই এ সেক্টরে প্রতিনিয়ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবলের প্রয়োজন হচ্ছে। এ সেক্টরে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া এমএসসি, এমবিএ, এম ফার্ম, বি ফার্ম ইত্যাদি শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়। মেডিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মাসিক নির্দিষ্ট বেতনের পাশাপাশি টার্গেট পূরণের ওপর অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়। বর্তমানে অনেকেই ডিগ্রি পাস করে এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে। কাজের ক্ষেত্র অনেক বড় হওয়ায় এ সেক্টরে চাকরি পেতে সহজ হয়। কাজের অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকলে এখানে খুব দ্রুত বেতন বেড়ে যায়, তাই নতুন যারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে তাদের জন্য উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার মেডিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টর।

আরএমজি : বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি ব্র্যান্ড হিসেবে উন্নত দেশগুলোয় পরিচিতি লাভ করেছে। পর্যাপ্ত জনশক্তি, আকর্ষণীয় শ্রমবাজার ও ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য উন্নত বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে পোশাক খাতে বিনিয়োগ করছে। বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান রপ্তানি খাতই হলো গার্মেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অধিকাংশই এ খাত থেকে আসছে। বিশাল এ সেক্টরে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন পড়ছে। সেই তুলনায় কোম্পানির মালিকরা লোকবল পাচ্ছে না। এ সেক্টরে যেমন প্রয়োজন হচ্ছে সাধারণ শ্রমিক, তেমনি প্রয়োজন দক্ষ ও শিক্ষিত লোকবল; যারা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে কাজ করবে। গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে অনেক বায়িং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা বিদেশ থেকে অর্ডার সংগ্রহ করে দেশীয় গার্মেন্টে কাজ পরিচালনা করে থাকে। এখানেও দক্ষ লোকবলের সংকট। এ সেক্টরে বর্তমানে উচ্চবেতন দিয়ে দক্ষ লোকবল নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এ সেক্টরে গ্র্যাজুয়েটসহ বিবিএ, এমবিএ ইত্যাদি যোগ্যতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি মার্চেন্ডাইজিং জানা থাকলে চাকরি পেতে সহজ হয়।

ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেক্ট : সারাবিশ্বে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেক্টের চাহিদা অনেক বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও বর্তমানে এ সেক্টরের প্রতি নতুনদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেক্টের ওপর বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। এ সেক্টরে চাকরি করতে হলে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ, মাস্টার্সসহ বিভিন্ন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যোগ্যতা চাওয়া হয়। আর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অন্য সেক্টর থেকে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে যায় নিশ্চিন্তে। শুধু প্রয়োজন নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কিছু কারিগরি অভিজ্ঞতা।

সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং : সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। যারা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করে, তাদের জন্য এ সেক্টর উপযুক্ত স্থান। আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত নতুন প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে এবং তাদের পণ্য বাজারজাত করতে প্রচুর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। যদিও একসময় সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং একই ডিপার্টমেন্ট ছিল কিন্তু বর্তমানে সেলস ও মার্কেটিং আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব ডিপার্টমেন্টে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন হচ্ছে। এ সেক্টরে চাকরির জন্য সাধারণত বিবিএ, এমবিএ এবং মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও হিসাববিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েট চাওয়া হয়। সঠিক জ্ঞান ও পরিশ্রম করলে এ সেক্টরে অল্প সময়ে ভালো অবস্থানে যাওয়া সম্ভব।

ক্রিয়েটিভ মিডিয়া : আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে কর্মসংস্থানের দিকও পরিবর্তন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ের সেরা ক্যারিয়ারের মধ্যে মিডিয়া সাইড উঠে এসেছে। মিডিয়া সাইডের মধ্যে রয়েছে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়া। প্রিন্ট মিডিয়ার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকতা, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ফটোগ্রাফার, আইটি প্রভৃতি এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ায় সাংবাদিকতা, ক্যামেরাম্যান, প্রোগ্রাম তৈরি করা অর্থাৎ ডিরেক্টর, অভিনয়, উপস্থাপনাসহ অনেক সাইড। বর্তমানে এ সেক্টরের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ জড়িত রয়েছে এবং দিন দিন কর্মসংস্থানের আরও সুযোগ সৃষ্টিতে এ সেক্টরের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাহিদা থাকার কারণে বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কোর্সের ব্যবস্থা করছে এবং কিছু বেসরকারি ইউনিভার্সিটি স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু করছে। এ সেক্টরের চাকরির জন্য সাংবাদিকতা বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট, অনার্স, মাস্টার্স ডিগ্রিসহ বিভিন্ন যোগ্যতা চাওয়া হয়।

Collection From dainikamadershomoy



Related Posts

image

ফ্রিল্যান্সিং শুরুর আগে যা জানার দরকার

20/04/2026

Career Advice

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের চাহিদা অনেক অংশে কমিয়েছে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং। এটি এমন একটি পেশা যেখানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। আপনার যখন ইচ্ছ

image

ক্যারিয়ার বদলে দেবে যেসব দক্ষতা

20/04/2026

Career Advice

বর্তমানে চাকরির বাজারে ডিগ্রির পাশাপাশি বেশ কিছু দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দক্ষতাই এখন ক্যারিয়ার সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি। ভালো ক্যারিয়ারের জন্য কিছু গরুত্বপূর্ণ কোর্স এর প্রয়োজন রয়েছে।

image

ছাত্র অবস্থায় ইন্টার্নশিপের গুরুত্ব

19/04/2026

Career Advice


Do you Need Any Help?