Facebook Youtube Twitter LinkedIn
...
একসঙ্গে গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত

শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ১৬ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। 
এছাড়া সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/১০ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাছুটিতে বিদেশে অবস্থানরত এসব শিক্ষককে বারবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত ১৬ শিক্ষক হলেন- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।
একই সঙ্গে অফিস আদেশে তাদের ছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা সব অর্থবিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের (মোরাল টারপিটিউড) অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রিজেন্ট বোর্ডের পৃথক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৩ জুন থেকে তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে রিজেন্ট বোর্ড তাকে সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত বলে মত দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠে। পরে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। 
তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষাছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ড তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা অর্থ বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Collected From jugantor



Do you Need Any Help?