Facebook Youtube Twitter LinkedIn
...
মালয়েশিয়ায় ১২৬ বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাসের বেতন বকেয়া

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডিতে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাদের এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাদেরকে কাজ করতে হয়েছে।
১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে-কে বলেন, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
কর্মীরা বলেন, কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় পৌনে ৫ লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা) খরচ হয়েছে। এ অর্থের বড় একটি অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। 
তারা বলেন, আমরা যখন এখানে সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া হতো না।
শ্রমিকদের মুখপাত্র বলেন, তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমরা বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত (প্রায় ৭৫ হাজার টাকা) জামানত চাচ্ছে। এটা ঠিক নয়। 
তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা সেখানে যাননি।
তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে দূতাবাস থেকে ঢাকা পোস্টকে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কোম্পানিতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সঙ্গে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক।
কোম্পানির মুখপাত্র বলেন, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 
আরএফ
Collected From  dhakapost



Do you Need Any Help?