Facebook Youtube Twitter LinkedIn

ভিসা জটিলতায় হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিসের শ্রমবাজার

  • Nov 5, 2026
গ্রিসের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন ইমন মিয়া। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পেয়েছিলেন ওয়ার্ক পারমিটও। সব প্রস্তুতি শেষে বাকি ছিল শুধু ভিসা নিয়ে গ্রিসে যাত্রা। কিন্তু সেই পথেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভারতীয় ভিসা। 
নিয়ম অনুযায়ী গ্রিসের ভিসার জন্য সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লি যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় আর উড়াল দেওয়া হয়নি তার। শুধু ইমন নন, এমন ভিসা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে গ্রিসে কাজ করতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশির স্বপ্ন। অথচ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিসের শ্রমবাজারে রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বিপরীতে ফিলিপাইন, ভারত ও নেপাল থেকে ক্রমেই বাড়ছে কর্মী নিয়োগ। ফলে সম্ভাবনাময় এই শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।
গ্রিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিলিপাইন থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৪৩। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৭৯-এ। একই সময়ে ভারত থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগ ৭ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৭। নেপাল থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী নিচ্ছে গ্রিস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও গ্রিসের শ্রমচুক্তির আওতায় গত দুই বছরে ৮ হাজার কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকলেও দেশটিতে বৈধ পথে গেছেন ৫০০ জনেরও কম।
বাংলাদেশে গ্রিসের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস না থাকায় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের দিল্লির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভারতীয় ভিসা পাওয়া, যাতায়াত এবং নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জটিলতায় অনেকেরই চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। নিয়োগকর্তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় তাঁরা অন্য দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করছেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিসে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি খামার থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টের মালিকরা নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশিরা কাজেও দক্ষ। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্রদূত জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই গ্রিসের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলাদেশে নিয়মিত কনস্যুলার টিম পাঠানো কিংবা অন্য কোনো দেশের গ্রিক দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা আইনসম্মতভাবে গ্রিসে আসতে চাইলেও ভারতীয় ভিসার জটিলতায় অনেকেই দিল্লিতে যেতে পারছেন না। অথচ গ্রিক নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মী চান। সময়মতো কর্মী না পেলে তারা অন্য দেশ থেকে লোক নিয়োগ করেন। 
২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রতিবছর সর্বোচ্চ চার হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা হারাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, অন্যদিকে গ্রিসের নিয়োগকর্তারাও বিকল্প শ্রমবাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে নিয়মিত গ্রিক কনস্যুলার কার্যক্রম চালু, বিকল্প দেশে ভিসা আবেদন ও সাক্ষাৎকারের সুযোগ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই কর্মী পাঠানোর সুযোগ ধরে রাখতে দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
আরএএস 
Collected From dhakapost
All news